এই মাত্র পাওয়া, সৌদিতে গাড়িচাপায় এক বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবে গাড়িচাপায় শাহিন আলম (২২) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।সোমবার সন্ধ্যায় সৌদির জেদ্দা শহরের এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন আলম রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা এলাকার মিয়াজান পাটোয়ারী বাড়ির মো. শাহজাহান পাটোয়ারীর ছেলে।মঙ্গলবার স্বজনদের বরাত দিয়ে সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিএম ইউসুফ জালাল কিছমত জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহিন মেজ। দেড় বছর আগে বাবা শাহজাহান সৌদি আরব নিয়ে যান তাকে। পরে ছেলেকে কর্মস্থলে রেখে গত কয়েক দিন আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন বাবা।শাহিন সৌদিতে একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। কাজ শেষ করে সোমবার সন্ধ্যায় ওভারটাইম কাজ করতে অন্যত্র যাচ্ছিলেন তিনি।এ সময় সৌদি আরবের জেদ্দা এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিন মারা যান। পরে সৌদি পুলিশ শাহিনের মরদেহটি উদ্ধার করে।এদিকে লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা সরকারি সহযোগিতায় নিহতের লাশটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী বলেন, সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হবে। পাশাপাশি মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন=সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদের মুখে সৌদি রাজপরিবারের বেশ কয়েক সদস্য মোহাম্মদ বিন সালমানকে সিংহাসনে আরোহন থেকে প্রতিরোধ করতে ওঠেপড়ে লেগেছেন। সেক্ষেত্রে সিংহাসনে বসতে পারেন বাদশাহ সালমানের একমাত্র আপন ভাই প্রিন্স আহমেদ।সৌদি রাজপরিবারের তিন সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।শক্তিশালী আল সৌদি পরিবারের একটি শক্তিশালী শাখার কয়েক ডজন রাজপুত্র ও তাদের ভাইয়েরা সিংহাসনের উত্তরসূরির সারিতে একটা পরিবর্তন দেখতে চান।কিন্তু যুবরাজের বাবা ৮২ বছর বয়সী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদি জীবিত থাকাকালে এটি কার্যকর হবে না বলে তারা মনে করেন। কারণ তারা দেখতে পেয়েছেন, কোনোভাবেই নিজের সন্তানের প্রতিকূলে যাবেন না বাদশাহ।

সালমান বিন আবদুল আজিজের মৃত্যুর পরেই এ পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বলে রাজপরিবারের সদস্যরা আলোচনা করেছেন।সূত্র জানায়, সে ক্ষেত্রে বাদশাহ সালমানের ভাই ও যুবরাজের চাচা প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ সিংহাসনে বসতে পারেন।বাদশাহ সালমানের একমাত্র জীবিত আপন ভাই হচ্ছেন প্রিন্স আহমেদ। পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো, নিরাপত্তা সংস্থা ও রাজপরিবারের সদস্যদের তার প্রতি সমর্থন রয়েছে।প্রায় আড়াই বছর দেশের বাইরে থাকার পর এই অক্টোবরে দেশে ফিরেছেন আহমেদ। লন্ডনের বাসভবনের বাইরে সৌদি রাজতন্ত্রের পতনের দাবিতে বিক্ষোভের সময় প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি সৌদি নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করেন।২০১৭ সালে সৌদি আরবের হাইয়াত আল বাইয়াত বা আনুগত্য পরিষদের তিন ব্যক্তি সিংহাসনের উত্তরসূরি হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধিতা করেন। প্রিন্স আহমেদ তাদেরই একজন।তবে এ বিষয়ে কথা বলতে প্রিন্স আহমেদ কিংবা তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারাও প্রিন্স আহমেদকে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে সৌদি উপদেষ্টাদের কাছে আভাস দিয়েছেন। গত ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন আহমেদ।

সৌদি সূত্র জানায়, তারা আত্মবিশ্বাসী যে এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ মোহাম্মদের নেয়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে পরিবর্তন কিংবা বিরুদ্ধে যাবেন না প্রিন্স আহমেদ। এমনকি বর্তমান সৌদি সামরিক ক্রয় চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাবেন ও পারিবারিক বন্ধন ফিরিয়ে আনতে তিনি কাজ করবেন।যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে চাপ সত্ত্বেও যুবরাজের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে তাড়াহুড়ো করবে না হোয়াইট হাউস।কর্মকর্তারা বলেন, হোয়াইট হাউস দেখেছে- রিয়াদে সোমবার সুরা কাউন্সিলের ভাষণে নিজের ছেলের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন সালমান। কারণ পুরো ভাষণে তিনি খাশোগি হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন- খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সিআইয়ের মূল্যায়ন অপরিপক্ব, তবে সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, তিনি মঙ্গলবার এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেয়েছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*